দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের দিকে এগোচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগের দিনও ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় নভেম্বরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৪৪ ডলার। সোমবার বাজার বন্ধের সময় এর দাম ছিল ৮৮ ডলারের কিছু বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় পর আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। এর জবাবে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে তিনটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির পরিচালিত ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। হামলায় কেউ হতাহত হননি। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।
তবে সংঘাতের পর সেই সংখ্যা কমেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ১০৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১২১।
হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। এ ধরনের জাহাজকে সাধারণত ‘ডার্ক শিপ’ বলা হয়। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা মার্কিন নৌবাহিনীর বাধার ঝুঁকি কমাতেই কিছু জাহাজ এভাবে চলাচল করছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক মনে করেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুরোপুরি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। তার মতে, সাম্প্রতিক হামলার পর সংঘাত আবারও উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে। তাই শিগগির হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কোনো সমঝোতা হওয়ার আশাও কমেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব তেলের বাজার হয়তো দীর্ঘস্থায়ী ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল পরিবহন চলতে পারে এবং পরিস্থিতি ২০২৭ সাল পর্যন্তও গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তার।
আগস্টের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ২১ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে উঠে যায়। এরপর দাম ৮৬ থেকে ৯১ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে।
আইজি মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি। তবে সপ্তাহের শেষ নাগাদ উত্তেজনা কমে গেলে এবং হরমুজ প্রণালিতে ‘ডার্ক শিপ’ ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর আবার বাড়লে তেলের দামের ওপর তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক বাড়তি মূল্য দ্রুত কমে যেতে পারে।
সুত্র-আল জাজিরা
এমএম/